
বর্তমানে আমাদের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে হৃদরোগ একটি মরণ ব্যাধি হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। সমাজে উচ্চশ্রেণী থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত এমনকি নিম্নবিত্ত পর্যন্ত কেউই হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে মুক্ত নন। এক সময় ধরা হতো হৃদরোগ প্রৌঢ় ও বৃদ্ধ বয়সের রোগ কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এখন ৩০ বছর থেকে ৬০ বছর বয়সের ব্যক্তিদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশী পরিলক্ষিত হচ্ছে। এমন কি ২০ বছর বয়সের ব্যক্তিদেরও হৃদরোগে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। পূর্বে আমরা জানতাম সন্তান জন্মদানযোগ্য বয়সে (১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়স) মহিলাদের হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। আমাদের বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাও বদলে গেছে। এ বয়সের অনেক মহিলা বর্তমানে হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
এসব পরিবর্তনের কারণ হিসাবে অনেকগুলো অবস্থাকে দ্বায়ী করা হচ্ছে। যার মধ্যে বেশ কিছু অবস্থার হৃদরোগ সৃষ্টির প্রভাব বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত।
কোন ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কতটুকু ঝুঁকিতে আছেন তা পূর্বে থেকে সঠিক ভাবে নির্ণয় করতে পারলে অনেক ক্ষেত্রেই হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। মনে রাখতে হবে যে, হৃদরোগের আক্রমন অনেক সময়ই তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের মৃত্যু ডেকে আনে। সুতরাং হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আগেই এ রোগ প্রতিরোধ করা বুদ্ধিমানের কাজ।
হৃদরোগের সঠিক কারণ হয়ত আমরা এখনও পুরোপুরিভাবে জানি না। তবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বেশ কিছু কারণকে সনাক্ত করা হয়েছে। যাদের প্রভাবে হৃদরোগ ঘটে থাকে বলে বহুবিধ প্রমাণ বিদ্যমান। এ সকল কারণকে হৃদরোগের ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনায় আনা হয়।
১। বংশগত প্রবণতাঃ যদি রক্তসম্পর্কীয় কোন আত্মীয়ের হৃদরোগ থাকে বা হঠাৎ মৃত্যুর ইতিহাস থাকে।
২। ডায়াবেটিসঃ যারা ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত এবং যদি তা নিয়ন্ত্রণে না থাকে।
৩। হাই প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপে বিশেষ করে যদি তা অনিয়ন্ত্রিত থাকে।
৪। ধূমপান, পাতা, জর্দা বা সাদা এ সব কিছু নিয়মিত গ্রহণ করলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।
৫। রক্তে চর্বিজাতীয় পদার্থের বা কোলেষ্টেরলের পরিমান বেশী থাকলে সাধারণভাবে বলা যায় যারা অধিক পরিমাণে পশুর চর্বি মানে চর্বিযুক্ত গরু ও খাসীর মাংস, ডিমের কুসুম, ঘি, মাখন, ছানা ইত্যাদি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করেন এবং যারা অধিক পরিমানে খাদ্য গ্রহণের ফলে মোটা হয়ে গেছেন, বিশেষ করে পেট মোটা হয়ে গেছে এবং যারা অলস জীবন যাপন করেন ।
৬। বয়ষ্ক ব্যক্তিগণ যারা পেশাগত কারণে কিংবা অন্য অসুস্থ্যতার কারণে অলস জীবন যাপন করছেন। পরিশ্রম না করার জন্য তাদের হার্ট কখনও দ্রুত চলতে সুযোগ পায় না ফলে হার্টও অলস হয়ে যায় তাতে অলস ব্যক্তির শরীরের মত মেদ বা চর্বি জমা হয় যা হৃদরোগ সৃষ্টি করে।
৭। হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ফলেঃ বিশেষ করে থাইরয়েড হরমোন এবং জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য মহিলাদের ঔষধ গ্রহণের ফলে। মোটা তাজা হওয়ার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঔষধ গ্রহণের ফলে।
৮। মানসিক টেনশন, দুঃশ্চিন্তা ইত্যাদি।
উপরের কারণগুলির মধ্যে যদি কারও একটি থাকে তিনি এক মাত্রার ঝুঁকিতে আছেন। যদি দুইটি থাকে তবে ২ মাত্রা না হয়ে আপনি ৪ মাত্রার ঝুঁকিতে আছেন, তিনটি একত্রে থাকলে আপনার ঝুঁকির মাত্রা ৮, এভাবে গুনিতক হারে আপনার ঝুঁকি বাড়তে থাকবে। সুতরাং যাদের একাধিক কারণ বিদ্যমান থাকে তাদেরকে অবশ্যই হৃদরোগের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ অত্যাবশ্যক।
SEO Tag-Alternative Heart treatment, ECP therapy, Heart, Heart disease, Therapy For Heart, কাটা-ছেঁড়া বিহীন হৃদরোগ চিকিৎসা, ন্যাচারাল বাইপাস ই.সি.পি থেরাপি, মেডিসিন ও খাদ্যভাস চিকিৎসা, মেডিসিন ও খাদ্যভাস মাধ্যমে হৃদরোগ চিকিৎসা, রিং বাইপাস ছাড়া হৃদরোগ চিকিৎসা, হার্ট, হার্টের থেরাপি, হৃদরোগের থেরাপি, হৃদরোগের বিকল্প চিকিৎসা